দেখুন ব্রন থেকে বাঁচার সহজ কিছু উপায়

0
38

আমাদের সুন্দর মুখশ্রী নষ্ট হয়ে অসুন্দর, ক্ষত ও অবাঞ্ছিত দাগ হয়ে  দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। আর বিশেষ ভাবে সুন্দরী ললনাদের জন্য বয়ে আনে এক দুৎসহ যাতনা। উঠতি বয়সের যুবক- যুবতীদের জন্য এটি একটি দারুন মন কষ্টের এবং যেন এক সামাজিক আতঙ্ক। ব্রন বা একনি হচ্ছে সিবেসাস গ্লান্ডের গোলযোগ সংক্রান্ত ত্বকের একটি খুব প্রচলিত রোগ। সিবেসাস গ্লান্ডগুলো মাথা ও মুখসহ মানব দেহের সর্বত্র ত্বকের নিচে হেয়ার ফলিকল বা কেশ গর্ভের গায়ে অবস্থান করে। এরা সিরাস নামে এক প্রকার তৈলাক্ত পদার্থ ক্ষরণ করে যা লোমকূপ দিয়ে দেহের বাইরে এসে মুখ ও গাত্র ত্বককে মসৃণ ও তৈলাক্ত / তেলতেলে রাখে এবং চুলকে ও তৈলাক্ত রাখে। এর ফলে ত্বকের কোষগুলো নরম থাকে এবং অকালে শুকিয়ে বা কুচকে যায় না। ত¦কের যেসব সূক্ষ সূক্ষ ছিদ্র বা লোমকূপ দিয়ে সিরাম বের হয় সেগুলো কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেলে সিরাম বাইরে আসতে পারে না। উহা জমতে থাকে এবং একসময় চামড়া ঠেলে উপরে উঠে, ফলে পিমপেল বা ফুসকুড়ির মতো দেখায় অনেক সময় ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন হয়ে পুঁজ ও জমে- এগুলোকেই ব্রন বলে।

সাধারণত ১২/১৪ বৎসর বয়স হতে ২৮-৩০ বৎসর বয়স পর্যন্ত মুখে ব্রন দেখা দেয়। ২০/২২ বৎসর বয়সেই সবচেয়ে বেশি থাকে-
(১) জন্মগত বা পূর্ব পুরুষের ধারা অনুসারে ব্রন হতে পারে।
(২) হরমোন- এ্যান্ড্রোজেন, এ্ষ্ট্রাজেন সিরাম ও ত্বকে বসবাস কারী জীবানুদের ইন্ট্রার এ্যাকশন বা ভারসাম্যের গোলযোগ হেতু। বিশেষ করে বয়সন্ধিকালে সেক্স হর্মোন ক্ষরণ বৃদ্ধির ফলে সিবেসাম গ্লান্ড আকারে বেরে যায় এবং কর্মতৎপরতা ও বৃদ্ধি পেয়ে বেশি করে সিরাম বা তেল উৎপন্ন হয়ে ব্রন ডেকে আনতে সাহায্য করে।
(৩) খাবার থেকে- অধিক মশলাযুক্ত বা গরম মশলা বেশি খেলে এই রোগ হতে পারে এবং এলার্জিটিক খাবারে বেড়ে যেতে পারে।
(৪) যাদের কোষ্ঠ কাঠিন্য সর্বদা অবস্থান করে।
(৫) অনিয়মিতভাবে ২/৪ দিন পর পর পায়খানা হয় তাদের ব্রন দেখা দেয়।
(৬) অতিরিক্ত ইন্দ্রিয় সেবাই ব্রনের অন্যতম কারণ হতে পারে এবং রাত্রি জাগরণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, নোংরা জীবন যাপন, আলো বাতাসহীন ঘরে থাকা।
(৭) লিভারের ক্রিয়ার গোলযোগ, পেটের পীড়ায় ভোগা।
(৮) উত্তেজক বস্তুর ব্যবহার, অতিরিক্ত কসমেটিকস ব্যবহারের কুফল এবং অত্যান্ত গরম ঠান্ডা থেকে।
(৯) বিসদৃশ ঔষধ সেবনের ফলে এবং জন্ম নিয়ন্ত্রনের বড়ি খাওয়ার ফলে ব্রন হতে পারে।
(১০) অতিরিক্ত আবেগের ফলে।
(১১) মহিলাদের মাসিক ঋতুস্রাব দেখা দেয়ার পূর্বে/পরে/সময়ে এবং গোলযোগের ফলে।

# লক্ষণানুসারে_ব্রন_চার_শ্রেণীতে_ভাগ_করা_যায়_যথা
১। একনি ভালগারিস এ ব্রন অতি সাধারণ প্রকৃতির এতে সাদা শাসের মত থাকে । ৪/৬ দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে কমে যায়। পরে কালো দাগও মিলে যায়।
২। একনি রেজিওলো ইহা রক্তিম বর্ণের আশ-পাশের শিরাগুলো স্ফীত হয়ে উঠে। গরম থাকে। ব্যথা বেদনার সৃষ্টি হয়। সহজে আরোগ্য হতে চায় না।
৩। একনি ইন্ডোরেটা আকারে গুটিকার মতো। পরিণত বয়সে এবং পুরুষদের বেলায় বেশি দেখা যায় এবং মাসিক ঋতুর গোলযোগ হেতু।

#লক্ষণ :
১) ছোট ফুসকুড়ির ন্যায় উদ্ভেদ।
২) গালে মুখে এবং পিঠে বেশী হয়।
৩) ফুসকুড়িগুলো স্ফীত হয়ে, লাল হয়,ব্যাথা থাকে।
৪) উদ্ভেদগুলো টিপে দিলে অনেক সময় ভাতের ন্যায় পদার্থ বের হয়।
৫) উদ্ভেদ গুলো ধীরে ধীরে মুখমন্ডলের চারদিকে এবং বুকে পিঠে ছড়িয়ে পড়ে।
৬) অনেক সময় পেকে পুঁজ হয়ে এবং ব্যথা করতে পারে। চাপের ফলে ফোড়ার আকার ধারণ করতে পারে।

ব্রনে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ গুলো লক্ষণানুসারে সফলতার সাথে ব্যবহার হয়- আর্নিকা মন্ট, ডালকামরা, বেলিসপেরিনামে, ব্যাসিলিনাম, থুজা অক্স, হাইপেরিকাম, বেলাডোনা, কেলিব্লোম, কার্বোলিক এসিড, নেট্রাম মিউর ইত্যাদি।

#সতর্কতা :
যারা ব্রনে ভোগে তাদের মুখে তেল বা ক্রিম মাখা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ সেবন করবেন না। ব্রন মুখে হাত/ নখ লগিানো কোনক্রমেই সমচিন নয়। বেশী তৈলাক্ত,চুলকানী যুক্ত
খাবার বর্জনীয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে হবে।
#করণীয় :
ডাক্তারের পরামর্শ মতে ঔষধ সেবন, ভাল সাবান দিয়ে আলতুভাবে মুখ ধুয়ে পরিস্কার রেখে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনে অতি অল্প সময়ে হোমিওপ্যাথিতে ব্রন এবং ব্রনের দাগ থেকে চিরমুক্তি সম্ভব ইন্শাল্লাহ।

বিঃদ্রঃ- লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করে অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন। মজার মজার রেসিপি ও অসাধারণ সব টিপস পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক এবং গ্রুপে জয়েন করে একটিভ থাকুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here